একটি সেতুই পারে চরম জন-দুর্ভোগের পরিসমাপ্তি ঘটাতে



আবুল বশর পারভেজ 

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী । এ দ্বীপটি সরকারের খাতায় অতিথে নগণ্য হলেও সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় এখন দেশের উন্নয়নের মাইলফলকে একটি নাম মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প। যে নামের সাথে- শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের উন্নয়নশীল উন্নত উৎপাদনশীল রাষ্ট্রের নজরে মহেশখালী।

তবে বিগত সময়ের হিসেবে দ্বীপটি- যুগের পর যুগ ধরে উন্নয়নের পথে বাধা হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে কক্সবাজারের সাথে মহেশখালীর নদী পারাপারের জন দুর্ভোগকে পুঁজি করে জিম্মি দশায় রাখা। জিম্মি দশায় যারা এই দ্বীপের ক্ষমতা হাতে নেয় তারাই নির্বাচনী মাঠের ইশতিহার ভুলে যায়। হয় টাকা, ক্ষমতা নামের নিজের ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে শোষণকারীদের সাথে মিলেমিশে তরল অবস্থায় মেয়াদ পার করে, এ কারণে ক্ষমতার প্রথম হাল যে দিকে সব নেতা সেদিকে হয়ে মুখ খুলে না।

জেলার বা উপজেলার আমলারা মহৎ ঘুড়ি উড়াতে কক্সবাজারে আসলে ও রাজনৈতিক ব্যক্তির চাপে ঘুড়ি তখন উল্টে পথে ঘুরতে শুরু করে। আমলা নেতার কাঁধে বন্দুক আর কলম রেখে চলে শোষণের পথে। মহেশখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রথম বাধা রাজনৈতিক অসৎ ইচ্ছা, তা না হলে জেলার অন্য ৭ উপজেলার সকল নেতা ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, পেশাজীবী বা মহেশখালীর নেতাদের পিছনে ছুটত।

কেন সেতু প্রয়োজন:

কুতুবদিয়ার মানুষের যে ভাগ মৌলিক চাহিদা  চকরিয়া থেকে যোগান পায় । বাকী ৫০ ভাগ যোগান চট্টগ্রাম  শহর থেকে নদী পথে  দ্রুতভাবে সহজে পেয়ে থাকে। মহেশখালীর জনগণ উন্নয়ন ও উৎপাদনের ৭০ ভাগ সরকারের অর্থনৈতিক যোগান দিতে পারলেও তার সুফল ভোগ করতে পারছেনা । কৃষি উৎপাদিত পণ্য পান উৎপন্ন করার পর একটি বৃহৎ আকরের বিপণন কেন্দ্র না থাকার কারণে অতি অল্প মূল্যে যথা স্বেচ্ছায় চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যেতে হয়। কক্সবাজারের সাথে মহেশখালীর সেতু স্থাপন করা হলে দূরত্ব কমবে নিজেদের মত দ্রুত ব্যবস্থাপনার বিপণন করতে পরবে।

মহেশখালীর জনসাধারণে ৭০ ভাগ মানুষ লবণ উৎপাদন করে। তাদের পরিশ্রমের ঘামের টাকা এখানে কলকারখানা স্থাপন না হওয়ায়  সিন্ডিকেটের পকেটে চলে যায়। সেতু স্থাপন হলে কয়েক বছরের মধ্যে অত্যাধুনিক লবণ শিল্প কারখানা স্থাপন হবে। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের মূল্যে পাবে। সাগর থেকে আহরণ করা মাছ এখন দীর্ঘ সময়ে বরফ দিয়ে সমুদ্র পথে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যেতে হয়। কারণ যোগাযোগ অব্যবস্থাপনা ও দাদন ব্যবসায়ীদের কাজে ফিশিং মালিক জেলেরা জিম্মি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা তৈরি হলে শহর থেকে মহেশখালী প্রান্তে এসে সাগর থেকে আহরণ করা মাছ নিয়ে যাবে ব্যবসায়ীরা তার জন্য সেতু তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বর্পূন । একজন মুমূর্ষু ডেলিভারি রোগীকে কক্সবাজার শহরে চিকিৎসা দিতে নিয়ে যাওয়া হোয়ানকে মাঝপথ থেকে হলে ও ৩ ঘণ্টা সময় লাগে, ঘাটে বিড়ম্বনার শেষ নেই । যাত্রী বোজাই হবে, জ্বালানী ভরবে, ঘাটে পান সিগারেট খাবে, ভাটার সময় জেগে ১টা পলি থেকে নৌকা বা স্পিড বোট সরিয়ে জেলা সদর হাসপতাল পৌঁছানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। রোগী সেবা পাওয়ার চেয়ে বোটের ভাড়া আদায় করাটি মুখ্য হয়ে পড়ে।

সেতু হলে এক শ্রেণীর মানুষের বড় অসুবিধা যারা এ জন দুর্ভোগকে পুঁজি করে অদৃশ্য ইশারায় টেবিল ক্যাশ হয় তাদের বড় বাধা। অনেক ক্লিনিক ব্যবসায়ী, হোটেলে ব্যবসায়ী জন অকল্যাণ মুখি রাজনৈতিক নেতা যারা -সময়ে সময়ে স্বাধীনতার পালন করে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী ও বন দস্যুদের। মহেশখালীর মানুষে ২টি স্তরে বিভক্ত -একটি হচ্ছে (নম নম) যে যেখানে ধ্বংস হউক বা জীবন বিপন্ন হউক তারা তৈলের মানায় তৈল দিয়ে যারা নিজেদের বাঁচতে পারে। অপর একটি হল: মুখ খুলতেই বাধা যারা মুখ খুলে বলে তারা পদে পদে নানা হয়রানী, অধিকার বঞ্চিত, লাঞ্ছনার শিকার। যে দলের হউক তৈল মর্দন করতে পারা অযোগ্য মানুষেরাও যোগ্যতার ছদ্মবেশে তারা সফল।

যারা মহেশখালী টু কক্সবাজার ফেরী পারাপারে অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কিছু বলে না, বললে গায়ে লাগে তারা চোখে দেখা অন্ধ লোক সময়ে পকেট শিল্প, ঈদ-কোরবানেরও বিশেষ দিনে পোষকের টাকা নিতে অভ্যস্ত। তারা অজ্ঞাবহ বর্ণচোরা ছাড় কিছু নয়। সরকারের ইতিপূর্বে সেতু নির্মাণের জন্য সব ব্যবস্থা যাচাই করেছে। প্রতিবেদন ও অনেকাংশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে গেছে। কিন্তু কেন এত বিরোধ তার নেপথ্য রয়েছে। নানান মনঃতাত্বিক বিরোধ পছন্দ অপছন্দেও ব্যক্তির সুবিধা হারানোর ভয়ে যে কোন সময় আসল বিন্যাসের ক্ষমতা হারানোর ভয়।

একটি শ্রেণী মনে করছে মহেশখালীর সাথে কক্সবাজারের সংযোগ স্থাপন হলে অদূর ভবিষ্যৎ এ রাজনৈতিক আসনটি মহেশখালীর সাথে ঈদগাহ বা কক্সবাজারে হতে পারে। এব্যাপারে বড় নেতার চাপে নিজেরা স্থানচ্যুত হতে পারে এমন ভয়। অপর মহল মনে করে ঘাটের পরিবর্তে সেতু হলে দৌহিত্রের পোশাক কালো রাতের মহাজনি বিলুপ্ত হবে। এমন জল্পনা কল্পনা থেকে সুবিধা বাদীর মহল ভেঙ্গে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে সেতুর বিকল্প নেই। সব কিছু ভুলে মানুষের এখন একটাই দাবি, আর তা হলো দ্রুত সময়ে সেতু স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। 

আবুল বশর পারভেজ, মহেশখালীস্থ সাংবাদিক ও সংগঠক। 

সেতু নিয়ে আপনার গুরুত্বপূর্ণ লেখাটিও পাঠিয়েদিন আমাদের ঠিকানায়। লেখা পাঠান moheshkhalimovement@gmail.com এ ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য