মহেশখালী-কক্সবাজার সংযোগ সেতু নির্মানের দাবি



সাগরের বুকে জেগে থাকা ৩৮৮.৫০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর সাথে পযটন নগরী কক্সবাজারের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। নানা কারনে এই নৌপথটি পযটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়শই ঘটছে ছোট-বড়ু দূর্ঘটনা। এমন অবস্থায় কক্সবজার-মহেশখালী সংযোগ সেতু নির্মানের দাবী জোরালো হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কক্সবাজার-মহেশখালী সংযোগ সেতু নির্মান হলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে পুরো কক্সবাজারের পযটন খাতে। পাল্টে যাবে দুই পারের মানুষের জীবনচিত্র। পযটকরাও নিরাপদে মহেশখালী ভ্রমন করতে পারবে।  নিরাপদ যাত্রী পারাপার নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য তিনটি জায়গায় সেতু নির্মাণ হতে পারে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। পলাশ দে নামে একজন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মহেশখালী যদি সিঙ্গাপুর হয় তাহলে আমরা ফেরিঘাট দিয়ে সিঙ্গাপুর বানাতে পারব না। আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করতে হবে। যা চাই তা আমাদের জন্য কত সুবিধা হবে, এতে অন্য এলাকার কি সুবিধা হবে, দূর্যোগের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে, যোগাযোগে সময় কেমন লাগবে, যোগাযোগ কত মসৃন হবে, মানুষের ভোগান্তি কিভাবে কমানো যাবে, স্থাপত্যের স্থায়িত্ব কেমন হবে, আরো অনেক বিষয় হয়ত আপনাদের বিবেচনায় আছে। আমার বিবেচনায়, মহেশখালী জেটি থেকে এমন স্থানের সাথে যোগাযোগ করাতে হবে, যাতে নিজেদের সুবিধা হয়। তা হল একটি মজবুত ব্রিজ। স্থান নিচে লিখছি। ১। মহেশখালী জেটি থেকে চৌফলদÐী ২। মহেশখালী জেটি থেকে খুরুশকুল শেষ প্রান্ত। ৩। মহেশখালী গোরকঘাটা থেকে কক্সবাজার চরপাড়া। ১ নং হলে যোগাযোগ সুবিধা হবে। নির্মাণ খরচ কম হবে। স্থায়ী নির্মাণ সম্ভব। মহেশখালীর বেশিরভাগ মানুষের ভবিষ্যৎ বাসস্থান হতে পারে। এতে আরেকটি এলাকার সমুদয় উন্নতি হবে। ৬ নং এলাকার লোকদের অপমান থেকে বাঁচতে পারবে। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে চট্টগ্রাম যোগাযোগ সহজ হবে। আরও...২ নং ও প্রায়ই একই সুবিধা। ৩ নং হলে দূর্যোগের রিস্ক থাকতে পারে। বিমান বন্দরের অসুবিধা হতে পারে। পরবর্তীতে যোগাযোগে যানযটের সমস্যা হতে পারে। ‘
এম.এ হোসাইন নামে একজন লিখেছেন, প্রতি মুহুর্তে মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। একজন অসুস্থ মানুষ বা ডেলিভারি রোগি কক্সবাজারে নিয়ে যেতে হলে দূর্ভোগ কাকে বলে একমাত্র ভূক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝেনা। মহেশখালীর মানুষের মুক্তি জন্য একটি বহুমুখী সেতু বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গবেষক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘খুরুস্কুল-মহেশখালী বা চেফলদÐী-মহেশখালী সেতু সময়ের দাবী।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী লিখেছেন,  ‘আমরাও মহেশখালী -কক্সবাজার সেতুর বাস্তবায়ন চাই।’
মহেশখালী উপজেলার ৫ লাখ মানুষের দুর্ভোগের প্রধান স্থান মহেশখালী-কক্সবাজার পারাপার ঘাট। বর্ষা হলেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার হয়। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ২০ সেপ্টেম্বর মহেশখালী চ্যানেলের বাঁকখালী নদীতে মাছ ধরার ট্রলারের সাথে যাত্রীবাহী গামবোটের ধাক্কায় যাত্রীবাহী বোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হয় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র আশরাফুল মো. তোফাইল। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয় সোনাদ্বীপে। এরপর মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মানের জোরালো দাবিতে ইতোমধ্যে কক্সবাজার ও মহেশখালীতে মানববন্ধন করেছে বেশ কয়েকটি সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন।
এদিকে মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে পত্র বিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে। মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মানের ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে তথ্য চাওয়া হলে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৩৫-২০-২২০০-১১০.০১.০১৯.১৬.৯৬২ স্মারকে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা বরাবরে পত্র প্রেরণ করেন। পত্রে মহেশখালী আদিনাথ থেকে চৌফলদন্ডী সড়ক পর্যন্ত অংশ  ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। তা জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছেন।
এ বিষয়ে আশেক উল্লাহ রফিক এমপি স¤প্রতি দৈনিক কক্সবাজারকে বলেন, মহেশখালী-চৌফলদন্ডী ফেরীঘাট চালু করার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ফেরীঘাট চালু করার কাজ শুরু হবে। আমরা চাই মানুষ যাতে নিরাপদে পারাপার করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার গনমানুষের দাবীর প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল। মানুষের কল্যাণেই কাজ করছে আওয়ামী লীগ সরকার। মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু নির্মাণের বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অবহিত হয়েছে। সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই খুব দ্রæত শুরু হবে। আওয়ামী লীগ সরকার কাজে বিশ্বাসী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ